দেশ 

ঝাড়খণ্ডে ছাত্রবিক্ষোভকে সমর্থন করে রাঁচীতে বক্তব্য রাখার সময় হেনস্থার শিকার হলেন নেহা বোরা

শেয়ার করুন

ঝাড়খণ্ডে ছাত্রবিক্ষোভকে সমর্থন করে রাঁচীতে প্রতিবাদমঞ্চে হাজির হয়েছিলেন ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (আইসা)-এর সভাপতি নেহা বোরা। শুক্রবার সেই মঞ্চে উঠে মাইক হাতে বক্তৃতা শুরুর পর পরই তাঁকে লক্ষ্য করে কালি ছোড়া হয়। তাঁর মুখ, গলা এবং জামায় কালি ভরে যায়। সেই অবস্থাতেই বক্তৃতা শেষ করেন নেহা।

ঝাড়খণ্ডের কর্মসূচির পরে মঙ্গলবার কলকাতায় আসার কথা নেহার। ২০২০ শিক্ষানীতি এবং ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) বাতিলের দাবিতে আয়োজিত ওই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা নেহার। শুধু তা-ই নয়, নিট-আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি প্রত্যাহারের দাবিও তুলবেন নেহা। মৌলালি যুবকেন্দ্রে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। তবে সেখানে অনুমতি না-মেলায় রামমোহন লাইব্রেরিতে আইসার কর্মসূচি হবে শনিবার।

ইতিমধ্যেই ঝাড়খণ্ডের মঞ্চে নেহার গায়ে কালি ছোড়ার বেশ কয়েকটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়েছে । ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, নেহার জামায় কালির দাগ লেগে আছে। কেন আচমকা তাঁকে লক্ষ্য করে কালি ছোড়া হল, তা স্পষ্ট নয়। তবে পুলিশ তৎক্ষণাৎ ওই অভিযুক্তকে পাকড়াও করে। পরে তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। নেহার দাবি, বিজেপি এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) গুন্ডাবাহিনী তাঁকে লক্ষ্য করে কালি ছুড়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘ওই গুন্ডাবাহিনী শুধু আমাকে নয়, অন্তত ২০ জন মহিলা আন্দোলনকারীর গায়ে কালি দিয়েছে। ওদের কাছে কালি হল অন্যদের অপদস্থ করার হাতিয়ার, তবে আমরা এই কালি দিয়েই ভবিষ্যৎ লিখব।’’

উল্লেখ্য, দিল্লিতে যন্তর মন্তরে অবস্থানমঞ্চে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-কে লক্ষ্য করেও কালি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছিল।

দিল্লির ছাত্রবিক্ষোভ স্তিমিত হতে না-হতেই ঝাড়খণ্ডে শুরু হয়েছে পড়ুয়াদের অবস্থান-বিক্ষোভ। ঝাড়খণ্ডের পিএসসি এবং এসএসসি-সহ বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে আন্দোলন শুরু করেছেন পড়ুয়ারা। গত ৫ জুলাই ঝাড়খণ্ডের পিএসসি প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলপ্রকাশ হয়। তার পর থেকেই অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসতে শুরু করে। চাকরির পরীক্ষার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং সরকারের জবাবদিহি দাবি করতে থাকেন পড়ুয়ারা। সেই জবাবদিহির দাবি তোলেন নেহাও।

নেহার মতে, কোথাও কোনও প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে তার দায় শুধু বেসরকারি সংস্থার ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। একই সঙ্গে আইসা নেত্রীর দাবি, অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত বেসরকারি সংস্থাগুলিকে সরিয়ে দেওয়া উচিত। ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (জেএসএসসি)-এর পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর ওই দুই পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন পড়ুয়ারা। জয়পাল সিংহ মুন্ডা স্টেডিয়ামের কাছে ধর্না বসেছেন তাঁরা। অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন ছয় ছাত্র। সেই প্রসঙ্গে নেহার বক্তব্য, ‘‘বন্ধুরা যখন অনশন করে, তখন তাঁদের কী পরিমাণ শারীরিক কষ্ট হয়, তা বুঝি।’’


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ